নির্মাতা

Adnan Kabir

[email protected]

41/2 Swamibagh, 2nd Floor

আদনান কবির বর্তমানে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউশনের দুই বছর মেয়াদী চলচ্চিত্র নির্মাণ কোর্সে অধ্যয়ণরত। সম্প্রতি ইনস্টিটিউশনের মুজিববর্ষে গৃহীত কর্মকান্ডের অংশ হিসেবে তাঁর চিত্রনাট্য শেষ খাতার ৫২ পৃষ্ঠা নির্বাচিত হয়েছে। এছাড়াও ইনস্টিটিউশনের প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে মোট তিনটি নির্মাণ (শব্দের নীরবতা, হন্তারকদের প্রতি, ডিপ্লোমা চলচ্চিত্র পরগাছা) সম্পন্ন করেছেন এবং গবেষণা ফেলো হিসেবে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে রাজনৈতিক প্রভাব শীর্ষক গবেষণার কাজ চলমান রয়েছে। ফটোগ্রাফী ও চলচ্চিত্রের প্রতি আগ্রহের শুরু নটরডেম কলেজে এবং তা আজও চলমান। বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের আয়োজিত একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ প্রতিযোগিতায় প্রখ্যাত লেখক সন্জীব চট্টোপাধ্যায়ের কিশোর উপন্যাস ইতি পলাশ অবলম্বনে তাঁর লিখিত চিত্রনাট্যটি প্রতিযোগিতায় প্রথম হলেও তা প্রতিষ্ঠানের সীমাবদ্ধতায় নির্মাণ সম্ভবপর হয়নি। ইতি পলাশ চিত্রনাট্যটি মূলত ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ের প্রতিচ্ছবি; যেখানে ১৫ আগষ্ট,১৯৭৫ থেকে ১৭ মে, ১৯৮১ সালের মধ্যকার বিষয়গুলো যাপিত জীবনে উঠে আসে। বর্তমানে আদনান কবির নিজের প্রতিষ্ঠান এনলিভেনে কর্মরত। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড অনুমোদিত এনলিভেন সিনেমা ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও বিভিন্ন চলচ্চিত্র নির্মাণের সাথে সংযুক্ত। সম্প্রতি সরকারী অনুদান প্রাপ্ত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ময়না’র নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে দ্বায়িত্ব পালনও করেছেন। তার নেতৃত্বে Young Filmmakers for Development Sector নামে উন্নয়নমূলক বিষয়বস্তু নিয়ে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় এবং ২০২১-২২ সালে তা আরো বৃহত্তর পরিসরে করার পরিকল্পনা রয়েছে।

হন্তারকদের প্রতি

ভিউ

340

শেয়ার করুন

গল্পটি প্রথমে তৈরি হয়েছিল শামীম আপার একটি চিএনাট্যর কর্মশালার নিজস্ব কাজ হিসেবে। প্রথমে নাম দিয়েছিলাম; তওবা। যে সব নরকের পিশাচ খুনের আনন্দে মেতে ছিল বছরের পর বছর, তাদের মধ্যে যারা স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছিল; তাদের মৃত্যু কি আসলেই স্বাভাবিক ছিল? নাকি চরম ভয়ে আতংকে শেষ বিচারের দ্বারে পৌছিয়ে তারা তাদের পাপের স্বাদ পেয়েছিল - এ ধরনের একটা চিন্তা থেকে গল্পকাঠামো তৈরি হয়েছিল। পরে কবি শহীদ কাদরীর অমর সৃষ্টি হন্তারকদের প্রতি কবিতাটির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এর নাম হন্তারকদের প্রতি রাখি। শেখ রাসেলের মৃত্যুটি আমাকে ব্যক্তিগত ভাবে তাড়িয়ে বেড়িয়েছে নিতান্ত শৈশব থেকে। নিজের ডাকনাম রাসেল হওয়ায় এবং দেখতে খানিকটা শেখ রাসেলের মতো হওয়ায় (এখানে আমার ছেলে আইয়ান শেখ রাসেলের ভূমিকায় অভিনয় করেছে - সুতরাং আমার কথার সত্যতা তার মধ্যেই পাওয়া যাবে), আমি নিজের আগ্রহ থেকেই তাঁর সম্পর্কে অনেক কিছু জেনেছিলাম। অনেকে হয়তো জানেন না; শেখ রাসেলের মৃত্যুটি পৈশাচিকতা এবং নির্মমতার সর্বশেষ অবস্থা। পরিবারের প্রত্যেকের মৃতদেহ পার করে, মায়ের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে খুন করা - শয়তানের নিজস্ব চিন্তাতেও থাকে না। শেখ রাসেলকে প্রথমে খুন করা না হলেও; সকালের দিকে বাড়ির সামনে লাইন করে রাখা অন্যদের সাথে সে ছিল। কোন এক হাবিলদার (যার নাম-নিশানা খুজে পাওয়া যায়নি) শেখ রাসেলকে খুজে বের করে এবং খুনীদের হাতে তুলে দেয়। সে হাবিলদারটির পরিচয় সাধারন মানুষ হিসেবে আমরা জানি না। তবে যদি তার মৃত্যু হয়ে থাকে; আমি নিশ্চিত তার মৃত্যু এমন ভাবেই হয়েছে। আর তাদের পরিবারও একই ভাবে বাংলাদেশের বিরুদ্ধেই রয়েছে - ঠিক যেভাবে তারা ছিল। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনষ্টিটিউশনের তৃতীয় সেমিষ্টারের জন্য তৈরি এ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিএটি একটি সামান্য নির্মাণ হিসেবে দেখার জন্য অনুরোধ থাকলো সকলের প্রতি।