নির্মাতা

নিশাত তাসনিম কানিজ

[email protected]

কুমারখালী ,কুষ্টিয়া

মুজিব আমার আদর্শ

ভিউ

52

শেয়ার করুন

আমি এইচ. এস. সি. পরীক্ষার্থী(2021) l পাশাপাশি ছোটবেলা থেকে অবসর সময়ে নানারকম গল্প,কবিতা ,উপন্যাস লিখি l বঙ্গবন্ধু,মুক্তিযুদ্ধ সহ নানারকম বিষয়ে উপন্যাস সহ কবিতা রচনা করলেও কখনো তা প্রকাশ করার সুযোগ বা সুবিধা হয়ে ওঠেনি l তাই মুজিব শতবর্ষের শর্টফিল্ম প্রতিযোগিতায় আমার রচিত এবং নির্মানিত প্রাণপণ চেষ্টার একটি শর্টফিল্ম পেশ করা হলো ,সবাইকে দেখার জন্য অনুরোধ রইলো l নিচে কাহিনী সংক্ষেপ বর্ণনা করা হলো - " মুজিব আমার আদর্শ" চলচ্চিত্রের কাহিনী সংক্ষেপ: -গল্পটি তিনু নামের একটি মেয়ের জীবনের l যার জীবনের অন্ধকার অধ্যায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুরের আলোকে আলোকিত হয়েছে l তিনু বৃষ্টির পর ঠান্ডা পরিবেশে ছবি আঁকে,সে সময়ে তিনুর আশ্রমের দুটো বাচ্চা দৌঁড়ে আসে তার কাছে l ছোট বাচ্চাটি কৌতুহলভরে প্রশ্ন করে সে কার ছবি আঁকছে এবং কেন আঁকছে ?তখন তিনু স্নেহভরে তাদেরকে উত্তর দেয় যে উঁনি জাতিরজনক শেখ মুজিবুর রহমান l এরপর শ্রদ্ধাভরে জাতিরজনক শেখ মুজিবুর রহমানের মহত্ব এবং অবদান বর্ণনা করে l তিনু কেন প্রতিদিন ওঁনার ছবি আঁকে জানতে চাইলে তিনু বলে বঙ্গবন্ধু তিনুর জীবন পরিবর্তনকারী ,আজ বঙ্গবন্ধুর জন্যই সে এই জায়গায় আসতে পেরেছে l বঙ্গবন্ধু তিনুর পরম আরাধ্য ও মনোবল,শক্তি l এরপর তিনু বাচ্চাদের কাছে তার জীবনের ঘটে যাওয়া কালো অতীত থেকে কিভাবে বঙ্গবন্ধুর আলোর শিখায় উজ্জলিত হয়েছে তা গল্প করে l গল্পে তার পুরনো দিনের সৃতি ভেসে ওঠে l সে বলে -আর পাঁচটা সধারন মেয়ের মতো তার জীবন ছিলনা l সে তার কণ্ঠে সন্তুষ্ট ছিলনা l কারন তার কণ্ঠে সমস্যা ছিল l অকারণ ভয় ,লোকলজ্জায় আর অপারগতায় তার জীবন ছিল অতিষ্ট l সাহস করে কখনো কিছু করতে পারতোনা l আবার তিনুর বাবা হার্ট এর রোগী l মধ্যবিত্ত পরিবারে কোনো ছেলে ছিলনা যে রোজগার করবে !এদিকে দুটো ছোট ছোট বোন লেখাপড়া করে তাদের খরচ ; এতকিছুর ভিড়ে তার বাবা-মা চিন্তায় পরে যায় l এদিকে তিনু কারো চোখে চোখ রেখে সাধারণ ভাবে কথা বলতে পারেনা ,ভালোভাবে কোনো কাজও করতে পারেনা ,সবসময় ভীত হয়ে থাকে ,তাই না হতো কোনো চাকরি না কোনো পাত্রপক্ষ ওকে পছন্দ করতো !এ নিয়ে তার মাও মাঝে মাঝে ধৈর্য্য হারিয়ে কথা শোনাতো l এমনকি পাড়ার প্রতিটি মানুষ ,বাচ্চারাও সবসময় ওকে একচোখা করে হেয় করতো ওকে l এভাবেই অস্বাভাবিক জীবন-যাপন সহ্য করে চলতো তিনু l এক পর্যায়ে এসে চারিদিকের সমস্ত অপারগতা ওকে ঘিরে ধরে,চারিপাশের সব মানুষের কথা,ধিক্কার ওর কানে বাজে!হঠাৎ,কাঁদতে কাঁদতে বইয়ের তাকে হাত লেগে একটা বই আর একটা রেডিও পরে যায় l বইটি শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' আর রেডিওটা ওর নানা বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ গোলাম রসুলের l বঙ্গবন্ধুকে অনেক কাছ থেকে দেখেছেন উনি ,তাই অনেক জায়গার অনেক কথা ,ভাষণ রেকর্ড ছিল রেডিওতে l তিনু রেডিওটা চালায় আর বঙ্গবন্ধুর তেজি বজ্রকণ্ঠ শুনে কণ্ঠে শিউরে ওঠে !ওর ভিতর থেকে সমস্ত ভয় কাটতে থাকে l বঙ্গবন্ধুর কথার যে শক্তি সে শক্তিতে রূপান্তরিত হতে থাকে তিনু l এরপর বঙ্গবন্ধুর বই পড়ে তিনুর জীবন পাল্টাতে থাকে , মস্তিষ্কে জাগতে থাকে সাহস l জীবন কোন দিকে ধাবিত করতে হবে বুঝতে পারে ও l বঙ্গবন্ধুর ভাবমূর্তি প্রকাশ পায় তিনুর মধ্যে l এরপর সকাল হয় l জন্ম নেয় এক নতুন তিনু l যে তিনুকে কেও আগে দেখেনি ,যার মধ্যে ভয়ের কোনো রেশ থাকেনা l এরপর দেশ,দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে থাকে l ভালো কাজের জন্য জায়গা করে নেয় সকলের মনে l সাহসিকতার প্রতীক হয়ে ওঠে তিনু l এরপর একে একে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিষ্ঠিত ইসলামিক ফাউন্ডেশনে চাকরি পায় ও l এছাড়া নিজে উদ্দ্যেগ নিয়ে ব্যবসা দাঁড় করায় ; পথের অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ায় ,অনাথ অসহায় পথের শিশুদের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয় l ভালো কাজ আর বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে চলে শূন্য তিনু পূর্ণ হয়ে ওঠে l গল্প বলা শেষে অশ্রুতে ভিজে ওঠে তিনুর চোখ l এরপর বাচ্চারা তাকে বঙ্গবন্ধুর কবিতা শোনায় l অনেক পরে যখন তিনু বঙ্গবন্ধুর ছবির দিকে অপলক তাকিয়ে থাকে ,আশ্রমের খালা এসে ওকে চা দেয় l খালা কৌতুহলবসে প্রশ্ন করে সে কেন তার অবসর সময়ে এই ছবি দেখে পার করে l তখন তিনু শ্রদ্ধার সাথে বঙ্গবন্ধুর বাঙালীদের জন্য উৎসর্গিত হওয়ার সমস্ত বিষয় বিশ্লেষণ করে ll পুরো গল্প জুড়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতি অপার শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে l বঙ্গবন্ধুর সৃতি ভাষণ শুধু মাত্র শোনার জন্য না মানার জন্য শুনতে হবে l তাই আমাদের উচিৎ জাতিরপিতার সমস্ত নির্দেশনা মেনে জীবনে এগিয়ে যাওয়া l (এই সল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে পুরোটায় আমি বঙ্গবন্ধুর প্রতি আমার ভালোবাসা ,শ্রদ্ধাকে উৎসর্গ করেছি l সমস্ত দিকের সাহায্য থেকে বঞ্চিত হয়েও চেষ্টা থামায়নি ,ভিডিও এবং এডিটিং এ অপটু হয়েও আমি আমার ভালোবাসা প্রকাশ করার চেষ্টা করেছি l তাই কোনো ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানাচ্ছি )