নির্মাতা

Joyanta Basak

[email protected]

আকুর টাকুর পাড়া, টাঙ্গাইল

পিতৃঋণ

ভিউ

87

শেয়ার করুন

"পিতৃঋণ" জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি আমাদের পরিবারের ক্ষুদ্র শ্রদ্ধার্ঘ্য। পাকা হাতের কাজ হয়ত হয় নি, আমাদের অভিনেতা-অভিনেত্রী থেকে শুরু করে কাহিনীকার-পরিচালক সকলেই অপেশাদার। বলা চলে, এটাই স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণে আমাদের প্রথম প্রয়াস। প্রথম প্রয়াস হিসেবে ভুল-ত্রুটি থাকবেই, তাই প্রথমেই সবার কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় আমাদের কমতি ছিল না। সেই শ্রদ্ধা ও ভালবাসাকে পুঁজি করেই আমরা "পিতৃঋণ" নির্মাণের দুঃসাহস দেখিয়েছি। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমান সারাজীবন বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে একটু হাসি ফোটানোর জন্য সংগ্রাম করে গেছেন, সে ইতিহাস আমাদের সকলের প্রায় জানা। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট, পাকিস্তানীরা যা করতে সাহস পায় নি, আমাদের স্বদেশীয় কতিপয় বাঙালি ষড়যন্ত্রকারী সেই দুঃসাহস দেখিয়েছে, স্বপরিবারে হত্যা করেছে জনমানুষের নেতা বঙ্গবন্ধুকে। হত্যার পরদিন কত অবহেলায় তাঁকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় দাফন করা হয়, সে সম্পর্কে আমরা কতটুকু জানি? গোসল না করিয়ে, জানাজা না পড়িয়ে কফিনশুদ্ধু বঙ্গবন্ধুর গুলিবিদ্ধ নিথর দেহকে কবরে পাঠাতে চেয়েছিল হন্তারক। যদিও কয়েকজন ধর্মপ্রাণ মুসলমান ভাইয়ের প্রতিবাদে সেটা সম্ভব করতে পারে নি তারা। শেষে রেড ক্রিসেন্টের রিলিফের কাপড় এনে তা থেকে লাল পাড়টুকু ছিঁড়ে শুধু কাপড়ের সাদা অংশটুকু ব্যবহার করা হয় বঙ্গবন্ধুর কাফন হিসেবে। মৃতদেহ গোসল করানোর জন্য আনা হয় ৫৭০ সাবান। আমাদের চলচ্চিত্রটি এই ৫৭০ সাবানের দৃষ্টিকোণ থেকে নির্মিত। ৫৭০ সাবানের জবানিতে স্থান পেয়েছে পিতার প্রতি আমাদের করা অবিচারের কথা, আর সেই অন্তিম ঋণশোধ, যা সাবানটি করে দেখিয়েছে, বাঙালি হয়ে আমরা যা পারি নি। আমরা বাজেটের অভাবে, উপযুক্ত চলচ্চিত্র নির্মাণ বিদ্যা ও প্রযুক্তির অভাবে হয়তো ইতিহাসের পুনর্কথন সেভাবে তুলে ধরতে পারি নি, যেভাবে আমাদের অন্তুরের সাধ ছিল। তবু আমরা চেয়েছি, বঙ্গবন্ধুর মত একজন সিংহ-হৃদয় নেতার অন্তিম যাত্রায় তাঁর প্রতি করা আমাদের অবহেলার কথা, আমাদের লজ্জার কথা সবাই জানুক। পিতৃঋণ শোধ হয় না কখনো। কিন্তু ইতিহাসের এই শাপমোচনের দায় নিশ্চয়ই বাঙালি হিসেবে আমাদের রয়েছে। জয়ন্ত বসাক টাঙ্গাইল।