নির্মাতা

Md.Joynul Abedin

[email protected]

Rajendrapur Cantonment,Gazipur Sadar,Gazipur-1742

চেতনায় মুজিব

ভিউ

787

শেয়ার করুন

গাজীপুর জেলার একটি মফস্বলের সমাজসেবা সংগঠন নয়নপুর যুব সংঘ "চেতনায় মুজিব" স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের পটভূমি। রাশেদ নয়নপুর যুব সংঘের একজন সদস্য। দেখতে সুন্দর ও সুঠাম দৈহিক গড়নের রাশেদ একটু চালাক এবং সুবিধাবাদী প্রকৃতির তরুণ। ইউনিয়ন পর্যায়ের ছাত্র রাজনীতির সাথেও জড়িত রাশেদ। কিন্তু স্থানীয় ছাত্র রাজনীতিতে শক্তপোক্ত একটি অবস্থানের আশায় সে প্রতিনিয়তই ব্যবহার করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন এবং উক্তিকে। বাস্তবিক জীবনে রাশেদের সাথে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন কিংবা নীতিগত কোন মিল না থাকলেও, রাশেদ প্রতিনিয়ত তার স্বার্থ হাসিলের জন্য ব্যবহার করতে চায় বঙ্গবন্ধুকে। তার এসকল কাজের মধ্যে, বঙ্গবন্ধুর ছবি সম্বলিত ফেসবুক পোস্ট, লোক দেখানো সহায়তা করে ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের আসল চরিত্র লুকিয়ে রেখে দেশপ্রেমিক হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করার প্রবণতা অন্যতম। কখনো কখনো ক্ষুধার্ত পথশিশুকে সামর্থ্য থাকা স্বত্তেও মাত্র ৫ টাকা দান করে ছবি তুলে বঙ্গবন্ধুর কোন উক্তি সহ সামাজিক যোগাযোগ পোস্ট করেও নিজেকে মহান প্রমান করতে চায় সে। সংঘের প্রেসিডেন্ট আমিন ভাই এবং অন্যান্যরা প্রায়ই তার এসব ঘটনা বুঝতো এবং তুলে ধরে রাশেদকে দেখিয়ে দিলেও রাশেদ কখনোই বুঝতে চাইতো না। এদিকে ১৭ মার্চ,বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী এবং জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নয়নপুর যুব সংঘ। সেই অনুযায়ী চলে প্রস্তুতি। রাশেদকে দায়িত্ব দেয়া হয় কিছু পোস্টার প্রিন্ট করে আনার জন্য। পোস্টার প্রিন্ট শেষে রাশেদ যুব সংঘে যাওয়ার জন্য রিক্সায় ওঠে। রিক্সা চালাতে থাকে বৃদ্ধ রিকশাচালক। গন্তব্যে পৌছে রাশেদ রিকশাচালকে ৩০ টাকা ভাড়া দিলে রিকশাচালক ৫০ টাকা ভাড়া দাবি করে। রিকশাচালক রাশেদকে বলেন যে, লকডাউনে রাস্তায় বের হওয়া যায়না। কিন্তু সংসার চালাতে হয়। পেটের দায়ে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে রিকশা নিয়ে বের হয়। তাই ভাড়া একটু বেশি দিতে হবে। কিন্তু রাশেদ এই যুক্তি মানতে নারাজ। রিক্সাচালকের সাথে রাশেদের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে বৃদ্ধ রিকশাচালকের গায়ে হাত তুলে ফেলে রাশেদ। রাশেদের হাত থেকে পড়ে যায় বঙ্গবন্ধু ছবি এবং উক্তি সম্বলিত পোস্টারগুলো। রাগের মাথায় এতো বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে ভাবেনি রাশেদ। বয়স্ক রিকশাচালকের মুখ দেখে রাশেদ বুঝতে পারে সে মারাত্নক অন্যায় করেছে। মনে কষ্ট নিয়েই রিকশাচালক চলে যায়। মাটিতে পড়ে থাকা জাতির জনকের পোস্টারগুলোয় লেখা উক্তিগুলো দেখে অনুতপ্ত হয় রাশেদ। এই প্রথম রাশেদ উপলব্ধি করতে পরে, যেই কাজগুলো সে এতোদিন ধরে করে এসেছে সেগুলো ভুল ছিলো, যার জন্যই আজ সে এতো জঘন্য কাজটিও মনের ভুলে করে ফেলে। সমাজে এমন অনেক মানুষই রয়েছে যারা নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য প্রতিনিয়ত ব্যবহার করে থাকে স্বাধীনতা ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তবে মনে-প্রাণে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ কতজনই-বা লালন করে? তাই মুজিব কেবল ফেসবুক পোস্ট আর কাগজের পোস্টারে নয়, মুজিবকে ধারণ করতে হবে চেতনায়।