নির্মাতা

Md. Samiul Alam

[email protected]

93/1, Middle Pirerbag, Near Paka Mosjid, 60Feet Rd, Mirpur, Dhaka

আমার ঠিকানা

ভিউ

6648

শেয়ার করুন

আমার ঠিকানা চলচ্চিত্রের কাহিনী সংক্ষেপ: ঢাকা শহর। কিছু শিশু অনেক বড় ময়লার স্তুপ থেকে প্রয়োজনীয় জিনিস টোকাচ্ছে । খোকা একটা পরিত্যাক্ত খেলনায় হাত দিলে একই সাথে হাত দেয় ওর চেয়ে শক্তিশালী মিন্টু। খোকা ভয়ে ভয়ে তাঁর দিকে তাকায়। মিন্টু ইশারায় তাকে ছেড়ে দিতে বলে ওটা। খোকা সেটা ছাড়ে না। তাঁকে টেনে একটা থাপ্পড় দেয় মিন্টু, বাজে গালি দেয়! মিন্টুর সাথে থাকা ছেলের দল ওকে দেখে উপহাস করে, খোকা মিন্টুর জামার কলার ধরে টান মারতেই স্ক্র্যাপইয়ার্ডের মহাজন তাঁর পানখাওয়া নোংরা দাঁত বের করে বলে, “ঠিকই তো কয়ছে, তোর নানী একটা বাজে মেয়ে! তোর মায়ে একটা পাগলী!” খোকা একবার প্রতিবাদ করতে চায়। কিন্তু ওদের এইসব কথার কিছুটা সত্যতা থাকার জন্য সে চোখে জল নিয়ে জায়গাটা ছেড়ে চলে যেতে থাকে। খোকাদের বস্তি। খোকা কাঁধে ময়লা কুড়ানোর ঝোলা নিয়ে দৌড়ে যায়। বস্তিতে যে ঘরে খোকারা থাকে তাঁর উঠোনে শেকলে বাঁধা তাঁর মা। ওকে দেখে আদর করে কাছে ডাকে। কাছে যেতেই চিৎকার করে ওর মুখে একদলা থুতু দিয়ে সজোরে হাসতে থাকে ওর মা। ওর নানী এসে ওকে সরিয়ে নেয়। বারান্দায় ঢেকে রাখা পান্তা ভাত খেতে দেয়। অন্য একদিন। সকাল বেলা। উঠোনে চিৎকার করে কাঁদে খোকার নানী। “বাজান... আমার বাজান....” খোকার নানীর এই চিৎকারে খোকার পাগলী মা’ওটাও চোখ বড় বড় করে হতবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। একসময় তাঁর চোখ দিয়েও নীরবে জল বেরিয়ে আসে। বস্তির খেটেখাওয়া শ্রমিক শমসের এসে ওর নানীকে থামায়, “বু-জান...চুপ কর... কাইন্দো না... সে তো আর ফিইরা আইবো না...” খোকার নানীকে উঠোনে বসিয়ে দিয়ে হাঁটতে থাকে শমসের। তাঁর পেছন পেছন আসে খোকা। শমসের কোথাও এসে বসে। তাঁর পেছনে এসে থামে খোকা। শমসের: কিছু কইবি? খোকা কিছুক্ষণ নীরব থেকে, “প্রত্যেক বছর এই গরমের কালে নানী চিক্কুর পাইড়া কাঁন্দে ক্যান? দীর্ঘশ্বাস নেয় শমসের। খোকা: এইদিন কি হের বাপে মরছিল? শমসের: (কান্না না আটকাতে পেরে) এই জাতির বাপে মরছিল! খোকা তাঁর দিকে আশ্চর্য হয়ে তাকিয়ে থাকে। শমসের: মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী আর্মিরা তোর নানীরে তুইলা নিয়া গেছিলো। দ্যাশ স্বাধীনের পর ফেরত দিছে। এইরকম হাজার হাজার মা-বোন গো। তাগো কোন ঠিকানা নাই। ইজ্জত নাই। শ্যাখের বেটা কইলো, ওদের পিতার নামের জায়গায় আমার নাম লিইখা দাও। ঠিকানা ৩২ নাম্বার। ... সেই থেকে তোর নানীর মত সব বীরাঙ্গনার বাজান সে! কিন্তু ৭৫ এ তারে.... ( আর বলতে পারে না সে) খোকা: মহাজনে আমার নানীরে গালি দেয়। আমার মায়েরে গালি দেয়। কয়, তোর বাপের ঠিক নাই। শমসের: প্রতিবাদ করবার পারোস না? শ্যাখের বেটার মত প্রতিবাদী হইতে পারিস না? তোর নাম না খোকা? এইডা কার ডাক নাম ছিল জানিস? খোকার চোখ জ্বলজ্বল করে। মুখে একটা স্মিত হাসি। সে কিছু না বলেই দৌড়াতে থাকে। শমসের পেছন থেকে ডাকে, “ওই পাগলা, কই যাস? হুইনা যা...” খোকা দৌড়াতে থাকে। সে দৌড়াতে দৌড়াতে আবর্জনার পাশে মিন্টুর সামনে দাঁড়ায়। মিন্টুর দল ওকে দেখে ক্ষেপাতে শুরু করে। খোকা এগিয়ে গিয়ে মিন্টুকে মেরে শুইয়ে ফেলে। তাঁরপর দৌড়ে স্ক্র্যাপইয়ার্ডের মহাজনের দিকে যায়। মহাজন ওকে দেখে হেসে বলে, “ওই যে আইছে .. বাপের ঠিক নাই..নিজেগো কোন ঠিকানা নাই ” তখনই খোকা একটা পাথর তুলে নেয়। ছুঁড়ে মারে ক্যামেরার দিকে। স্ক্রীণ ফেটে যায়। আর চিৎকার করে বলে, “আমার বাপে শেখ মুজিব। এই দ্যাশের বাপে শেখ মুজিব। আমার ঠিকানা ৩২ নাম্বার।“ খোকার নানীকে দেখা যায়, যে ছবিটি বুকে জড়িয়ে ধরে তিনি কাঁদছিলেন, আসলে ওটা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ছবি, যিনি ৭১ এর নির্যাতিতা বীরাঙ্গনা নারীদের নিজের কন্যা সমতুল্য সম্মান দিয়েছিলেন। (সমাপ্ত)